ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৬ আগস্ট ২০২০, ১৫ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

‘মাংস দিয়া কি করাম, ট্যাকা পাইলেই লাভ’

শেখ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৫১ ঘণ্টা, আগস্ট ১, ২০২০
‘মাংস দিয়া কি করাম, ট্যাকা পাইলেই লাভ’

ঢাকা: ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির পর থেকে বাড়ি বাড়ি ভিড় জমায় হতদরিদ্ররা। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মাংস সংগ্রহ করে তারা।

এরপর ভ্রাম্যমাণ ভাবে ঘুরে ওই মাংসগুলো বিক্রি করে নগদ অর্থ কামায় এসব হতদরিদ্ররা। অনেকেই অন্য জেলা থেকে ঢাকায় এসেছেন শুধু কোরবানির মাংস সংগ্রহের জন্য। এগুলো বিক্রির পর সেই নগদ অর্থ নিয়ে ফিরবেন নিজ জেলায়। প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের পাশে ও রেললাইন সংলগ্ন বাজারে কোরবানির মাংস কেনা-বেচার হাট বসেছে।

এদিকে, নিম্ন আয়ের মানুষরা  কোরবানির (সংগ্রহকৃত) মাংস কিনতে ভ্রাম্যমাণ এসব বিক্রেতাদের কাছে ভিড় করেন।  অনেকেই দামাদামি করে এসব মাংস কিনে বাসায় ফেরেন।

ঈদুল আজহার শনিবার (০১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে ।

‘সারাদিন বাড়ি বাড়ি গিয়া, দাঁড়ায় থাইক্কা মাংস আনছি। সবই ভালো মাংস। মানুষে দাম দেয় না। এত মাংস কি করাম (করা)। খাওনের (খাবারের) টুকু রাইখ্যা (রেখে) বাকি টা ব্যাচতে আইলাম। আমরা গরিব, মাংস দিয়া কি করাম ট্যাকা পাইলেই লাভ’। আব্দুল্লাহপুর মোড়ে সংগ্রহ করা কোরবানির মাংস বিক্রির সময় এমনটাই জানালেন শেফালী আক্তার। তিনি ময়মনসিংহ থেকে কোরবানির মাংস সংগ্রহের জন্য রাজধানীর উত্তরায় এসেছেন।

শেফালী বলেন, ‘এইত্তা (এগুলো) ফেরেস (ফ্রেস) মাংস। বাড়ি বাড়ি মাংস টুকাইছি, অহন ব্যাচতাম (বিক্রি) আইছি (এসেছি)। ভালা জিনিস, টাটকা জিনিস কিন্তু লুকেরা (লোকজন) দাম দিতাম চায় না। লইলে লবো না লইলে কাইট্টা পড়েন। ঢাইক্কা খালি দাম মুলাইবো (দাম করা)। ’ 

সাড়ে তিন কেজি মাংস দাম কইছি ১৫'শ ট্যাকা (১ হাজার ৫০০ টাকা), মাইনসে দাম কয় ৮'শ/ এক হাজার ট্যাকা। মাংস টুকাইতে আমগোর কষ্ট হইছে না। হ্যাই কষ্টের দাম তো উঠে না’ - যোগ করলেন তিনি।

কোরবানির মাংস কিনতে এসেছেন মামুন হোসেন। তিনি একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস চাইতে পারিনি। এখন কয়েক কেজি মাংস কিনতে এসেছি। অনেকেই কোরবানির মাংস বিক্রি করতে এসেছে। ভালো পেলে কয়েক কেজি কিনে বাসায় যাবো। কিন্তু তারা দাম চাইতাছে অনেক বেশি। এত টাকা দিয়ে মাংস কিনলে তো কসাইয়ের দোকান থেকেই কিনতে পারি।

এদিকে দেখা যায় শেফালীর মতো আরও অনেকেই কোরবানির মাংস নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন বিক্রির জন্য। অনেক ক্রেতাও রয়েছে। তারা দাম করছেন, কেউ মাংসের ব্যাগ খুলে দেখছেন, পছন্দ হলে কিনছেন নয়তো অন্য কারো কাছে গিয়ে আবার দেখছেন।

উত্তরায় কোরবানির মাংস বানানোর পর মৌসুমি কসাইদের অনেকে গরুর মাথা বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। তারা সড়কের পাশেই বসে কাঠের গুঁড়ির ওপর রেখে কেটে বিক্রি করছেন। অনেকেই গরুর মাথার মাংসও কিনে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা গরুর মাথার মাংস প্রতিকেজি সাড়ে তিন'শ থেকে চার'শ টাকা পর্যন্ত দাম চাইছেন। তবে ক্রেতারা কম দামে তা কিনে বাড়ি ফিরছেন।

রাজশাহী থেকে কোরবানির গরু বানাতে এসেছেন মৌসুমি কসাই সুলতান। তিনি জানান, উত্তরা ৬ নম্বর সেকশনে এক বাড়িতে চারটি গরু বানানোর কাজ করেছি। নিয়ম অনুযায়ী গরু বানানো বাবদ ছয় জনকে মজুরি দিয়েছে সেই সঙ্গে মাংস দেওয়া বাবদ গরুর চারটি মাথা দিয়েছে। আমরা এ মাথা নিয়ে কই যাবো। তাই এগুলো সড়কে পাশে বসে কেটে বিক্রি করছি। গরু বানানোর মজুরি পাইছি, এখন গরুর মাথা বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিয়ে বাড়ি যাবো।

বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোরবানির মাংস কেনা-বেচার বাজার বসেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। অনেকেই আবার ব্যাগে নিয়েও এসব বাজারে কোরবানির মাংস বিক্রি করছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫১ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০২০
এসজেএ/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa